পশ্চিমবঙ্গের অসংখ্য কৃষকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজ্য সরকার ২০২৬ সালের রবি মরশুমের জন্য ‘কৃষক বন্ধু’ (Krishak Bandhu) প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা দেওয়া শুরু করেছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে এই অনুদান কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে। সাধারণত ডিসেম্বর মাসেই এই কিস্তির টাকা দেওয়া হয়ে থাকে, তবে চলতি বছরে কিছু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে জানুয়ারিতে এসে অর্থ প্রদান প্রক্রিয়া শুরু হয়।
তবে অর্থ ছাড়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পরেও রাজ্যের বহু জায়গা থেকে কৃষকরা জানাচ্ছেন, এখনও তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েনি কিংবা কোনও এসএমএস নোটিফিকেশন পাওয়া যায়নি। এতে অনেকের মধ্যেই স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই অবস্থায় আতঙ্কিত না হয়ে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে ধাপে ধাপে বুঝে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কেন একসঙ্গে সবার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছে না?
অনেক কৃষকই কেন্দ্র সরকারের PM কিষাণ প্রকল্পের সঙ্গে রাজ্য সরকারের কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকা পাওয়ার সময় তুলনা করে চিন্তায় পড়ছেন। কিন্তু বাস্তবে এই দুই প্রকল্পের অর্থ পাঠানোর পদ্ধতি একেবারেই আলাদা। বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝলে অযথা দুশ্চিন্তার কোনও কারণ থাকবে না।
পিএম কিষাণ প্রকল্পে, কেন্দ্রীয়ভাবে একটি ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে একই সময়ে দেশের লক্ষ লক্ষ কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়। ফলে প্রায় সবাই একসাথেই টাকা পেয়ে যান।
অন্যদিকে, কৃষক বন্ধু প্রকল্পের অর্থ বণ্টন হয় জেলা ধরে ধরে। রাজ্য সরকার অর্থ ছাড়ের নির্দেশ দিলে তা সরাসরি কৃষকদের কাছে না গিয়ে প্রথমে প্রতিটি জেলার কোষাগার বা ট্রেজারিতে পাঠানো হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ধাপে ধাপে ব্যাংকের মাধ্যমে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করে।
এই কারণেই দেখা যায়, কোনও জেলায় কৃষকেরা দ্রুত টাকা পেয়ে গেলেও অন্য জেলায় ২–৩ দিন বা কখনও কখনও এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। সাধারণভাবে অর্থ ছাড়ের ঘোষণার পর এক সপ্তাহের মধ্যেই সব যোগ্য কৃষকের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাওয়ার কথা।
অর্থাৎ, এখনও টাকা না ঢুকলে আতঙ্কিত না হয়ে একটু সময় অপেক্ষা করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
কীভাবে নিজের পেমেন্ট স্ট্যাটাস দেখবেন?
যদি এখনও আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা জমা না পড়ে, তাহলে অকারণে ব্যাঙ্কে গিয়ে সময় নষ্ট করার প্রয়োজন নেই। ঘরে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে খুব সহজে নিজের বর্তমান পেমেন্ট স্ট্যাটাস যাচাই করা যায়। শুধু নিচের ধাপগুলি অনুসরণ করুন—
ধাপ ১:
প্রথমে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন https://krishakbandhu.wb.gov.in/
ধাপ ২:
ওয়েবসাইটের হোমপেজে গিয়ে ‘নথিভুক্ত কৃষকের তথ্য’ (Registered Farmer Information) অপশনটি খুঁজে নিয়ে সেখানে ক্লিক করুন।
ধাপ ৩:
এবার একটি সার্চ অপশন খুলবে। এখানে আপনি আপনার ভোটার কার্ড নম্বর (EPIC), আধার নম্বর অথবা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর—এই তিনটির যেকোনো একটি ব্যবহার করে তথ্য খুঁজতে পারবেন। সাধারণত ভোটার কার্ড নম্বর ব্যবহার করলে সবচেয়ে দ্রুত ফল পাওয়া যায়।
ধাপ ৪:
নির্বাচিত অপশনের ঘরে সঠিক নম্বর লিখুন, এরপর “I am not a robot” চেকবক্সে টিক দিয়ে ‘Search’ বাটনে ক্লিক করুন।
এরপরই আপনার নাম, রেজিস্ট্রেশন স্ট্যাটাস এবং টাকা পাঠানো হয়েছে কি না—সব তথ্য স্ক্রিনে দেখা যাবে।
‘Account Valid’ স্ট্যাটাস কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
স্ট্যাটাস চেক করার পর যে তথ্যগুলো দেখা যায়, তার মধ্যে ‘Transaction Status’ অংশটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপুর্ণ। এখানেই বোঝা যায় আপনার টাকা আসার পথে কোনো সমস্যা আছে কি না।
- যদি আপনার স্ট্যাটাসে ‘Account Valid’ লেখা থাকে, তাহলে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এর মানে হল আপনার সমস্ত নথি ও ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য সঠিক রয়েছে। ট্রেজারি থেকে টাকা ছাড় হলেই তা নিশ্চিতভাবে আপনার অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে। আজ না এলেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই টাকা চলে আসবে।
- তবে যদি ‘Account Valid’ না দেখিয়ে অন্য কোনও ত্রুটি বার্তা বা সমস্যা দেখায়, তখন বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কৃষি দপ্তর বা ব্লক অফিসে যোগাযোগ করা সবচেয়ে ভালো।
বিশেষ করে যাঁরা আগের মরশুমে—খরিফ বা রবি যেকোনো কিস্তিতেই—টাকা পেয়েছেন এবং বর্তমানে স্ট্যাটাস ‘Valid’ দেখাচ্ছে, তাঁদের অর্থ প্রাপ্তি নিয়ে কোনও সংশয়ের কারণ নেই। শুধু একটু ধৈর্য ধরে ব্যাঙ্ক ব্যালেন্সে নজর রাখলেই যথেষ্ট।